লাইফস্টাইল

বুকে ব্যথা ছাড়াও হতে পারে হৃদরোগ!

হৃদরোগের কথা বললেই প্রথমে মনে আসে বুকে ব্যথা। তবে হৃদরোগ সবসময় তীব্র বুকে ব্যথা দিয়ে শুরু হয় না। অনেকের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘাম বা আগের তুলনায় কম পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব হার্ট দিবস। হৃদযন্ত্রের সুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ২০২৬ সালের বিশ্ব হার্ট দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস আ বিট’। এর মাধ্যমে হৃদরোগের নীরব লক্ষণ, প্রাথমিক সতর্কসংকেত এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

হৃদরোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে নতুন করে শুরু হওয়া শ্বাসকষ্ট। বিশেষ করে আগে যে কাজ সহজেই করা যেত, সেই কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারলে ফুসফুসে চাপ তৈরি হতে পারে, যার কারণে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

আরেকটি লক্ষণ হলো অস্বাভাবিক ক্লান্তি। সিঁড়ি ভাঙা, স্বাভাবিক দূরত্ব হাঁটা বা প্রতিদিনের সাধারণ কাজ করতেই যদি আগের তুলনায় বেশি ক্লান্তি লাগে এবং তা নতুন ও নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সেটিকে শুধু বয়স, মানসিক চাপ বা শরীরের ফিটনেস কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

হৃদরোগে শুধু বুকের মাঝখানেই অস্বস্তি হবে এমন নয়। হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালেও চাপ বা অস্বস্তি হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব, মাথা হালকা লাগা বা ঠান্ডা ঘামও দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ অনেক সময় গ্যাস, অম্বল বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যান অনেকে।

লক্ষণ কখন দেখা দিচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক পরিশ্রমের সময় এসব সমস্যা দেখা দিয়ে বিশ্রাম নিলে কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে নতুন কোনো উপসর্গ অবহেলা করা উচিত নয়।

তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে হৃদরোগ হয়েছে, এমন নয়। শ্বাসযন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, পেশি বা অন্য অনেক কারণেও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে নতুন বা অস্বাভাবিক উপসর্গ বারবার দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

হৃদরোগের ক্ষেত্রে তীব্র বুকে ব্যথার জন্য অপেক্ষা না করে শরীরে নতুন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্ত করতে এবং গুরুতর সমস্যা হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্র: হেলথ লাইন

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন