দেশজুড়ে

টিকটকে পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা, দেখা করতে গিয়ে বিপদে ১৪ বছরের কিশোরী

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয়ের পর ইমোতে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে দেখা করতে গিয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ১৪ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে রাজু গাজীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নড়িয়া উপজেলার পূর্ব দিনারা গ্রামের ওই কিশোরীর সঙ্গে সখিপুর থানার চারভাগা শনিকান্দি গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে রাজু গাজীর প্রায় তিন মাস ধরে টিকটক ও ইমোর মাধ্যমে যোগাযোগ ছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এরপর দেখা করার কথা বলে উপজেলার ডিঙ্গামানিক গোলারমাঠ এলাকায় কিশোরীকে ডেকে নেন রাজু।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে জোর করে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। পরে একদিন বাড়িতে আটকে রেখে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়।

পরদিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ঢাকায় নিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রাখা হয়। সেখানে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে আরও একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে বিয়ের কাবিননামা করার জন্য রাজুকে চাপ দেন কিশোরী। এ সময় তাকে এলাকায় ফিরিয়ে এনে বাড়ির পাশের সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজুর বিরুদ্ধে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার পর স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি কিশোরীর পরিবার। পরে রাজুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে মামলা করলে বা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কিশোরীকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আইনি সহায়তার জন্য সখিপুর থানায় গেলে পুলিশ তাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে গত ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে রাজু গাজীর বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে পরিবারের সদস্যরা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদেরও তারা হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা যা পারেন করেন।’

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত রাজু গাজীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন