দেশজুড়ে

শিশুসন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণ , বাসের নিচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা

গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সোহরাব হোসেন নামের এক পানদোকানির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের কাছে ঘুরে বিচার না পেয়ে  সন্তানদের নিয়ে গতকাল দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ভুক্তভোগী নারী। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে  শ্রীপুর থানায় একজনকে আসামি করে ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী  বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে কয়েক মাসের ভাড়া বাকি পড়ায়  বাড়ির মালিক তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন।  দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি মাওনা চৌরাস্তার উড়াল সড়কের নিচে বসে ছিলেন। একপর্যায়ে সোহরাব এসে তাঁর কাছে সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তিনি তাঁকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগী বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলেডা আমার সব বোঝে। তারে আমার বুক থেইককা কাইড়া নিয়া আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। আমি কানছি; কিন্তু আমারে ছাড়ে নাই।’

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে বিচার চান। কিন্তু তাঁরা বিচার না করে হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় হতে বলেন। শেষে মাওনা চৌরাস্তায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তখন লোকজন দেখে ফেলায় তাঁরা তাঁকে সেখান থেকে পানের আড়তে নিয়ে আসেন।

জানা গেছে, পরে ওই নারীকে পানের আড়তে নিয়ে গেলে স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ভুক্তভোগী নারী শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ায় পর ভিক্ষাবৃত্তি করে দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরে তিনি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। অভিযুক্ত সোহরাবের বাড়ি নেত্রকোনায়।

ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান। স্থানীয় লোকজন দুজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন