নিরাপত্তার ভয়ে গরুর মাংস খাওয়া কমেছে পশ্চিমবঙ্গে
কঠোর আইন প্রয়োগ, কসাইখানা বন্ধ ও সরবরাহ সংকটে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে গরুর মাংসের সংকট দেখা দিয়েছে। কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকায় কমেছে বিক্রি, বেড়েছে দাম। এমনকি নিরাপত্তার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়ার প্রবণতাও কমেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি রাজ্য সরকার গঠন করার পর থেকেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।
গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকরের নির্দেশ দেয়। নতুন ব্যবস্থায় ১৪ বছরের বেশি বয়সী, প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী কিংবা গুরুতরভাবে পঙ্গু পশু ছাড়া গরু বা মহিষ জবাইয়ের জন্য ফিটনেস সনদ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত কসাইখানা ছাড়া অন্য কোথাও পশু জবাইয়ের অনুমতিও নেই।
কলকাতার ট্যাংরায় থাকা শহরের একমাত্র পৌর কসাইখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর পাশাপাশি কসাইদের ব্যবসায়িক লাইসেন্স নবায়নও বন্ধ রয়েছে।
মেয়র ফরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর পৌরসভা ভেঙে দেওয়া এবং আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন নির্ধারিত থাকায় লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া থমকে আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাজারদরেও। কলকাতায় গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ রুপি থেকে বেড়ে ৩৫০ থেকে ৫০০ রুপিতে উঠেছে। একই সময়ে এক প্লেট ভুনা মাংসের দাম ১০০ রুপি থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০ রুপি।
তবে দাম বাড়লেও গরুর মাংসের ব্যবসা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইন কঠোরভাবে কার্যকর হওয়ায় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী অলি পাব ও জাম জামসহ বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ তাদের খাবারের তালিকা থেকে গরুর মাংসের পদ বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে।
পরিস্থিতির কারণে অনেক মাংস ব্যবসায়ী ও খামারিও লোকসান এড়াতে কম দামে গবাদিপশু বিক্রি করে ছাগলের ব্যবসায় চলে যাচ্ছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালদার মতো এলাকায় কড়াকড়ির প্রভাব আরও স্পষ্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় এখন রাতে গোপনে এবং বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গরুর মাংস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ১০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শহুরে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার গরুর মাংস খেত। এই ভোক্তাদের মধ্যে মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিস্টান, দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষও রয়েছেন।
এদিকে ট্যাংরা কসাইখানা বন্ধ এবং ব্যবসায়িক লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে কলকাতা পৌরসংস্থার কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের আওতাধীন।
অন্যদিকে প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের পরিচালক নিখিল কুমার শেঠ বলেছেন, কসাইখানা পরিচালনা এবং পশুর ফিটনেস সনদ দেওয়ার পুরো দায়িত্ব কলকাতা পৌরসংস্থার ওপরই রয়েছে।
এসি//