দেশজুড়ে

চট্রগ্রামে ৮ তলা ভবনে নানা ডিভাইস নিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার, যা বলছে পুলিশ

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবন থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি দিয়ে তারা অনলাইনে প্রতারণা করে আসছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে।

ফয়সাল আহম্মদ বলেন, ভবনটির ১৪টি ফ্ল্যাটে  সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।  লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চলছে। সেখানে প্রতারণার কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁরা বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দেশীয় একটি চক্রের সহায়তায় দেড় মাস আগে তাঁরা খুলশীর ওই আটতলা ভবন ভাড়া নেন। ভবনটির মালিক দুবাইপ্রবাসী।

কী ধরনের প্রতারণা করা হতো এ বিষয়ে বলেন, কখনো নিজেরা ওয়েবসাইট খুলে, আবার কখনো বিভিন্ন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ছাড়া ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য হ্যাক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার ৬৩ জনের মধ্যে মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ জন ও ভিয়েতনামের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। গ্রেপ্তার ৬৩ জনের পাসপোর্ট ও ভিসা তাঁদের কাছে নেই। এসব নথি দেশীয় চক্রের সদস্যদের কাছে রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে কক্সবাজারে দুই হাজার আইফোনসহ ৭ বিদেশি নাগরিককে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই গ্রুপের সাথে চট্রগ্রামের এই বিদেশি চক্রের যোগসূত্র পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,  গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কীভাবে বাংলাদেশে এসেছেন এবং তাঁদের ভিসার ধরন কী, তা জানতে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, গ্রেপ্তার ৬৩ জনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন প্রতারণার পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন