মার্কিন হামলার জবাব হবে আরও ভয়াবহ, ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরানে নতুন করে কোনো হামলা হলে তার জবাব আরও দ্রুত, কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান আর ‘সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া’র নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি বলেন, ‘সমানুপাতিক জবাবের যুগ শেষ হয়ে গেছে’—এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যে বুঝে যাওয়ার কথা।
ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানগুলোকে কেবল প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগ্রাসী বাহিনীর ঘাঁটিতে চালানো অভিযান ছিল মাত্র শুরু। যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিষয়টি উপলব্ধি না করলে দেরি হওয়ার আগেই তাদের বুঝতে হবে যে সংঘাতের নিয়ম বদলে গেছে।
সামরিক ও কূটনৈতিক মোকাবিলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপও ইরান কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে দাবি করেন গালিবাফ।
এর মধ্যে শনিবার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। জাহাজ দুটির একটি বিমানবাহী রণতরী এবং অন্যটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। তবে দুটিই হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলে দাবি সেন্টকমের।
এর জবাবে তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের দাবি, হামলায় দুটি জাহাজ অচল হয়ে যায়। আর তৃতীয় জাহাজটির নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর সেটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মার্কিন জাহাজে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস ও ডুবিয়ে দেবে। তার দাবি, ইরানের জন্য পরিস্থিতি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো মার্কিন জাহাজে হামলা না করা।
তবে সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার তুলনামূলক সংযত অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী নিজেদের সেনাদের সুরক্ষার পাশাপাশি আইআরজিসির ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির লক্ষ্যেও কাজ করছে।
এদিকে ইরানের আরেকটি তেলবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবরও দিয়েছে সেন্টকম। তাদের দাবি, ‘এম/টি কাইলো’ নামের ট্যাংকারটি ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে। জ্বলন্ত একটি তেলবাহী জাহাজ পানিতে ডুবে যাওয়ার ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে তারা।
এমএ//