মাকে বেঁধে রেখে সৎ মেয়েকে ধর্ষণ
রাতের নীরবতায় ঘুমিয়ে পড়েছিল পরিবারের সবাই। কিন্তু সেই রাতেই ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর। ধামরাইয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সৎ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আজাহারুল ইসলাম ওরফে কাওছার (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে ধামরাই উপজেলার কেলিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার আজাহারুল পেশায় রংমিস্ত্রি। তিনি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার সমাসপুর সূতি গ্রামের বাসিন্দা। ধামরাইয়ের কেলিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা একটি রেডিও সেন্টারে রান্নার কাজ করেন। আগের সংসারে তার দুই মেয়ে রয়েছে। প্রায় সাত বছর আগে আজাহারুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আজাহারুল কৌশলে তার দুই সৎ মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। ওষুধ সেবনের পর দুই বোন আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে রাত চারটার দিকে তিনি স্ত্রীর হাত-পা রশি দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে দেন এবং মুখে কসটেপ লাগিয়ে রাখেন। এরপর বড় মেয়ের কক্ষে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ছোট মেয়ে তার মায়ের হাতের বাঁধন খুলে দেয়। এরপর মা বড় মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে কিশোরীটি জানায়, এর আগেও একাধিকবার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছেন তার সৎ বাবা।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আজাহারুল বাড়িতে ফিরলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটকে মারধর করেন। খবর পেয়ে ধামরাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এসি//