বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাতিলের মেয়াদ ফের বাড়াল কাতার
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে দেওয়া বিশেষ স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি। এর ফলে আসন্ন অক্টোবর মাসেও বাংলাদেশে কাতারি এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এই সংকটের মুখে রয়েছে পাকিস্তান ও ইতালি।
কাতারি গণমাধ্যম 'দোহা নিউজ' সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ ও ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স আগেই এশীয় ও ইউরোপীয় ক্রেতাদের কাতারি এলএনজি প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিল।
ইতালির জ্বালানি প্রতিষ্ঠান 'এডিসন' এক বার্তায় জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের দেশে এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ আগামী নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেছে। ইতোমধ্যে নির্ধারিত ২৯টি কার্গো বাতিল হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত তীব্র হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজিবাহী জলযান চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। গত মার্চে কাতার প্রথমবারের মতো এলএনজি সরবরাহে এই অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশ ঘোষণা করে এবং সংঘাত প্রলম্বিত হওয়ায় প্রতি মাসেই এর মেয়াদ বাড়িয়ে চলেছে।
আইসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার থেকে কাতার প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে যেখানে দেশটি ৫০৯টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছিল, চলতি বছরের একই সময়ে তা মাত্র ১৮টিতে নেমে এসেছে। এর ফলে কাতারের আনুমানিক ২৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৪০০ কোটি) মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়া রপ্তানি বাড়িয়ে এই ঘাটতি কিছুটা পূরণের চেষ্টা চালালেও বৈশ্বিক বাজার এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো এই এলএনজি সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি ২০২৮ সালের আগে বিশ্বজুড়ে এই সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সায়াদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছেন, রাস লাফান এলাকায় ঘটিত হামলার নেতিবাচক প্রভাবে দেশটির সার্বিক এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা অন্তত ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
আর/আই