সুদানে নতুন করে বাস্তুচ্যুত ২ লাখের বেশি মানুষ
সুদানের কর্ডোফান অঞ্চলে গেল আট মাসে নতুন করে ২ লাখেরও বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির এল ওবেইদ শহরে পানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এল ওবেইদসহ শেইকান জেলায় গেল আটমাসে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, সহিংসতার কারণে মানুষ বাড়িঘর ছাড়ার পাশাপাশি পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার সংকটেও পড়ছে। এর সঙ্গে মৌসুমি বন্যার মতো নতুন দুর্যোগ তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, এল ওবেইদে সংঘর্ষ ও ড্রোন হামলায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পানি সরবরাহের পাম্প, হাসপাতাল ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ব্লু নাইল রাজ্যে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ এবং পশ্চিম দারফুরে আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহে আরও প্রায় ১৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। উত্তর দারফুরের তাওইলা এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে প্রায় ১ হাজার ৩৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এক হাজারের বেশি পরিবার নতুন করে আশ্রয়হীন হয়েছে।
যুদ্ধের আগে এল ওবেইদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার। তবে সংঘাতের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এসে আশ্রয় নেওয়ায় বর্তমানে শহরটিতে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ অবস্থান করছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে সুদান ট্রিবিউন।
সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ৩৯ হাজার শিশু এল ওবেইদে এসে পৌঁছেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান সংঘাতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ নিহত এবং ৮৬ লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ ছাড়া ৪২ লাখের বেশি মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুদানে প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
এমএ//