অস্ট্রেলিয়ার ৩য় সারির দলের কাছে লজ্জার হার বাংলাদেশের
প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়া সফর। এই সফর একটি বার্তা দেওয়ার মতো হতে পারত। অথচ শুরুটা না হতেই বাংলাদেশ দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় সারির দলের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ, তাও আবার মোটে সোয়া দুই দিনে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের সামনে ৫৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ, তাতে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
শনিবার (৮ আগস্ট) ডারউইনে মূল টেস্টের আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের শেষ ইনিংসে ব্যাটিং ধস সামলাতে পারেনি টাইগার ব্যাটাররা।
প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের মান বাঁচানো সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ করে ২৬৩ রান। জবাবে বোলিংয়ে নেমে অনভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়া দলকে চেপে ধরেও লিড আদায় করতে পারেনি সফরকারীরা। স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠা উইকেটেও দীর্ঘ সময় ধরে সুবিধা করতে পারেননি দলের স্পিনাররা। প্রতিপক্ষের ইনিংস শেষ হয় ৩৫৫ রানে।
বাংলাদেশ তখন ৯২ রানে পিছিয়ে। দ্বিতীয় দিনের শেষে ১৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের কিছুটা আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল। তৃতীয় দিনের শুরুতে সে অস্বস্তি যে আতঙ্কে রূপ নেবে, তা কে জানত! আগের দিন বিকেলে ২ উইকেট নিয়ে শুরুটা করেছিলেন ক্যাম্পবেল থমসন। ইনিংস শেষ করেছেন ৮ উইকেট নিয়ে। বেরসিক কোরি রোকিচ্চিওলি ২ উইকেট দখল করে নিয়েছিলেন, নাহয় ক্যাম্পবেল বোধ হয় 'পারফেক্ট টেন' নিয়েই ইনিংস শেষ করতেন। ৮ উইকেট তিনি নিয়েছেন ১১ ওভারে, স্ট্রাইক রেটটা চোখ কপালে তোলার মতো—৮.২৫!
বাংলাদেশের স্কোরকার্ড নিয়ে কথা যত কম বলা যায়, ততই ভালো। ২২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। এই স্কোয়াডের সবচেয়ে অনভিজ্ঞ দুজনের মধ্যে তিনি একজন। এই ইনিংস খেলে তিনিই হয়েছেন দলের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। বাকিদের রানের সংখ্যাটা যেন টেলিফোন ডিজিট: ৬, ৬, ৫, ২, ৪, ০, ৬, ২, ০, ০। প্রস্তুতি ম্যাচের শেষটা তাই হলো ৫৪ রানে অলআউট হয়ে, ইনিংস ও ৩৮ রানের হারের বোঝা কাঁধে নিয়ে।
আর/আই