জাতীয়

২ মাস ১১ দিনে সারা দেশে গ্রেপ্তার ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন

অপরাধ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় দেশব্যাপী চলমান অভিযানে দুই মাস ১১ দিনে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে এসব গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে বিশেষ অভিযানে ৩২ হাজার ৯০৮ জন এবং বিভিন্ন মামলায় ও নিয়মিত পুলিশি অভিযানে ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি দেশীয় বিস্ফোরক, ২ কেজি গানপাউডার এবং ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও ১০ হাজারের বেশি দেশীয় ‘চকলেট বোমা’ও উদ্ধার হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৭৬টি পিস্তল, ৫০টি বন্দুক, ৩৩টি এলজি, ৩০টি শুটার গান, ১৮টি রিভলভার, ১৫টি পাইপগান, ৪টি শটগান, দুটি রাইফেল, দুটি সাবমেশিনগান, ১২টি এয়ারগান ও একটি পেনগান।

একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা, ৮ হাজার ২৮৪ প্যাকেট হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশীয় মদ এবং ৫ হাজার ৩৩৬ প্যাকেট গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদক-সংক্রান্ত ঘটনায় এ সময়ে ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে নিয়মিত, বিশেষ ও সমন্বিত অভিযান চলছে। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং জোরদারের অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরো অংশ সিসিটিভির আওতায় আনার পাশাপাশি ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাসস

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন