‘আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ড ম্যাচে ছিল টানটান উত্তেজনা, নাটকীয়তা আর শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জয়। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আরেকটি ঘটনা—রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনেইরোর সঙ্গে লিওনেল মেসির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়।
প্রথমার্ধের এক পর্যায়ে সুইজারল্যান্ড একটি ফ্রি কিক পায়। আর্জেন্টিনার রক্ষণ দেওয়ালে দাঁড়িয়েছিলেন অধিনায়ক মেসিও। সেই সময় পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনেইরো খেলোয়াড়দের নির্ধারিত দূরত্বে সরে যেতে নির্দেশ দেন। তবে রেফারির কথা বলার ধরন ও অঙ্গভঙ্গি ভালো লাগেনি মেসির। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, "আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন।"
ঘটনাটি সেখানেই থেমে যায়নি। ফ্রি কিক নেওয়ার পরও দুজনকে আবার কথা বলতে দেখা যায়। টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে, মেসি রেফারির কাছে গিয়ে শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে নিজের আপত্তির কথা তুলে ধরছেন। ঠোঁটের ভাষা থেকে বোঝা যায়, তিনি বলছিলেন, "আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন। আমাকে অসম্মান করবেন না। আমি তো আপনাকে সম্মান করেই কথা বলেছি।"
উত্তেজনাপূর্ণ সেই মুহূর্তেও নিজেকে সংযত রাখেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। কোনো বাড়াবাড়ি না করে হাত পেছনে রেখেই নিজের বক্তব্য জানান তিনি। তার আচরণে ছিল দৃঢ়তা, কিন্তু ছিল না আগ্রাসন।
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে আসে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনেইরোর নামও। পর্তুগালের ভিলা নোভা দে ফামালিসাওয়ে জন্ম নেওয়া ৩৮ বছর বয়সী এই রেফারি লিওনেল মেসির চেয়েও এক বছরের ছোট। ইউরোপের অন্যতম উদীয়মান রেফারি হিসেবে বেশ কয়েক বছর ধরেই পরিচিত তিনি।
২০১৫ সালে পর্তুগালের শীর্ষ লিগে অভিষেকের পর খুব অল্প সময়েই নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন পিনেইরো। মাত্র এক বছর পরই অর্জন করেন ফিফার আন্তর্জাতিক ব্যাজ। এরপর ধাপে ধাপে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, উয়েফা ইউরোপা লিগ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা সুপার কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করেন।
ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রেফারি প্যানেলে জায়গা করে নেন তিনি। তবে আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে মেসির সঙ্গে তার সেই সংক্ষিপ্ত বাক্যবিনিময়ই এখন বিশ্ব ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এসি//