আন্তর্জাতিক

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে তার জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বুধবার খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হয়। সেখানে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। পরে মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদে দাফন করা হয়।

বুধবার ভোর থেকেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নাজাফে শোকযাত্রা শুরু হয়। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনটি বিশেষ কাচের বাক্সে বহন করা হয়। নাজাফে হজরত আলী (রা.)-এর পবিত্র মাজারে খামেনির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ কারবালায় নেওয়া হয়, যেখানে ইমাম হুসাইন (রা.) ও হজরত আব্বাস (রা.)-এর পবিত্র মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

নাজাফ ও কারবালাজুড়ে শোকযাত্রায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। শোকাহতদের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা। অনেককে বুক চাপড়ে মাতম করতে দেখা যায়। শোকযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাসেবীরা খাবার ও পানীয় বিতরণ করেন।

খামেনির শেষকৃত্যের এই আয়োজন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। ইরানি কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিপুল জনসমাগম দেশের জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবে।

শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র নগরী নাজাফ দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো শিয়া মুসলিম নাজাফ ও কারবালা জিয়ারত করতে যান।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত তার দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তবে ইরানের গণমাধ্যমের দাবি, তিনি লিখিত বার্তার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই শোকযাত্রা শুধু ধর্মীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ইরান ও ইরাকের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেইনের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক যে নতুন মাত্রা পেয়েছে, খামেনির শেষ বিদায়ের আয়োজনেও তার স্পষ্ট ছাপ দেখা গেছে।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন