আর্জেন্টাইন সমর্থকের বর্ণবাদী আচরণের শিকার আইশোস্পিড
বিশ্বকাপের মাঠে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কোনো গোল কিংবা নাটকীয় ম্যাচ নয়, বরং বর্ণবাদ। জনপ্রিয় ইউটিউবার ও সোশ্যাল মিডিয়া তারকা আইশোস্পিডকে লক্ষ্য করে এক দর্শকের বর্ণবাদী মন্তব্যের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। একই সঙ্গে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্ণবাদ, ঘৃণা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ‘শূন্য সহনশীলতার’।
মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, ৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও কাবো ভার্দের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ-৩২ পর্বের ম্যাচ চলাকালে আইশোস্পিডকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত হয়েছে এবং সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে।
বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, “মায়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম কাবো ভার্দে ম্যাচ চলাকালে একজন সমর্থক ও আইশোস্পিডকে ঘিরে একটি ঘটনার বিষয়ে আমাদের জানানো হয়েছে। বিষয়টি জানার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। আমরা সব ধরনের বর্ণবাদ, ঘৃণা ও বৈষম্যের তীব্র নিন্দা জানাই।”

আইশোস্পিডের প্রকৃত নাম ড্যারেন ওয়াটকিনস জুনিয়র। ফিফা, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্প্রচারকারী ফক্স স্পোর্টস এবং ইউটিউবের সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তির আওতায় তিনি বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচে উপস্থিত থেকে সরাসরি সম্প্রচার করছেন। এই চুক্তির ফলে তিনি ম্যাচের আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারও একযোগে স্ট্রিম করার সুযোগ পাচ্ছেন।
ঘটনাটি ঘটে আর্জেন্টিনা ও কাবো ভার্দের ম্যাচ চলাকালে। লাইভস্ট্রিমের সময় গ্যালারিতে থাকা এক দর্শক আইশোস্পিডের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি তার দিকে ফিরে জানতে চান, কী বলা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সমর্থক স্প্যানিশ ভাষায় তাকে বলেন, “চিড়িয়াখানায় গিয়ে কাঁদো।” এরপরই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের একজন আইশোস্পিড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলিয়ে তার অনুসারীর সংখ্যা ১৫ কোটিরও বেশি। ইউটিউবে তার প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ সাবস্ক্রাইবার, ইনস্টাগ্রামে ৫ কোটি, টিকটকে ৪ কোটি ৭০ লাখ এবং এক্সে ৪১ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে।

বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যুতেও তাকে ঘিরে ভক্তদের ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। গত মাসে নিউ জার্সিতে একটি ম্যাচ শেষে নিরাপত্তারক্ষীদের বেষ্টনীতে স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে, কারণ বিপুলসংখ্যক ভক্ত তাকে ঘিরে ফেলেছিলেন।
ঘটনার পর ফিফা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়; এটি বিভিন্ন সংস্কৃতি, জাতি ও মানুষের মিলনমেলা।
সংস্থাটির ভাষায়, বিশ্বকাপ হলো “ঐক্য, বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার উদযাপন। তাই যারা এই মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করে, তাদের জন্য ফুটবলে কোনো স্থান নেই।’’
এসি//