খেলাধুলা

রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ দিয়েছে মিশর

৭৮ মিনিট পর্যন্ত সবকিছুই ছিল মিশরের নিয়ন্ত্রণে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে পিছিয়ে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল উত্তর আফ্রিকার দলটি। কিন্তু ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত অনিশ্চয়তার খেলা, সেটিই যেন আরও একবার প্রমাণ করল আর্জেন্টিনা।

মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফিরে আসে আলবিসেলেস্তেরা। একের পর এক আক্রমণে মিশরের রক্ষণ ভেঙে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। নাটকীয় এই প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ফলাফল নয়, বরং রেফারিং। একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে মিশর ফুটবল ফেডারেশন।

ফেডারেশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ে এবং তার সহকারী রেফারিদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মিশরের একটি বৈধ গোল বাতিল করা হয়েছে, সম্ভাব্য একটি পেনাল্টির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং এসব সিদ্ধান্ত দলের বিদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন ফিফার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে মিশর।

ম্যাচ শেষে হতাশা গোপন করেননি মিশরের খেলোয়াড়রাও। বাতিল হওয়া গোলটির স্কোরার তারকা মিডফিল্ডার মোস্তফা জিকো সরাসরি রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তার অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে রেফারির সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে গেছে।

আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।

তার দাবি, রেফারি ম্যাচ কারচুপি করেছেন এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে ফিফা আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে ধরে রাখতে চায়।

শুধু অভিযোগ জানিয়েই থেমে থাকেনি মিশর ফুটবল ফেডারেশন। তারা বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে। পাশাপাশি যেসব সিদ্ধান্তকে তারা 'ফারাও'দের বিপক্ষে নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে, সেগুলোর ব্যাখ্যাও চেয়েছে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়েকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদনও জানিয়েছে তারা।

মিশরের দাবি, আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারি ও তার দল নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছেন।

এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখছেন না ফুটবল বিশ্লেষকেরা। চলমান বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের মান নিয়ে আগেও একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন এবং উয়েফাসহ বিভিন্ন সংস্থা ম্যাচ পরিচালনার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে মিশরের অভিযোগ নতুন করে সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

ফুটবলের ইতিহাসে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প নতুন নয়। তবে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনার ৩-২ ব্যবধানে জয় যেমন বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হয়ে থাকবে, তেমনি এই ম্যাচের রেফারিং নিয়েও আলোচনা থামার সম্ভাবনা কম। এখন নজর ফিফার দিকে—মিশরের অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই হতে পারে এই বিতর্কের পরবর্তী অধ্যায়।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন