আলজাজিরার বিশ্লেষণ
বাবার জানাজায় অনুপস্থিত থাকতে পারেন মোজতবা খামেনি
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবা, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশ নাও নিতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শনিবার (০৪ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেন, ইরান আশঙ্কা করছে, শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ইসরাইল আবারও দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলা চালাতে পারে।
তিনি জানান, ‘অতীতেও ইসরাইল রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে জানাজা বা শেষকৃত্যের শোভাযাত্রায় হামলা চালিয়েছে। তাই তেহরানের এই সতর্কতা অস্বাভাবিক নয়।’
তবে মাসগ্রেভের মতে, দীর্ঘমেয়াদে মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ পর্যন্ত জনগণের সামনে আসতেই হবে। তাকে এমন নেতা হিসেবে দেখা উচিত, যিনি গোপনে নন, বাস্তবেই দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’
একই ধরনের মত দিয়েছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি। তার মতে, ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কারণেই মোজতবা খামেনির প্রকাশ্যে না আসার সম্ভাবনা বেশি।
এসলামি বলেন, ‘ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা করে না এবং ইরানে নতুন করে অভিযান চালানোর হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি তারা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী সমঝোতা নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সর্বোচ্চ নেতার জনসমক্ষে আসা নিরাপদ নয়।’
এদিকে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সের আশপাশে শোকাহত মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো পোশাক পরিহিত হাজারো মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার হাতে অনুষ্ঠানস্থলের দিকে যাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে কমপ্লেক্সের ভেতর ও বাইরে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মাহমুদ আবদেলওয়াহেদ জানিয়েছেন, কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
প্রথম দিনে ইরান-ইসরাইল সংঘাতে নিহতদের স্বজনরা খামেনিকে শেষ বিদায় জানান। দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল শোকানুষ্ঠানে অংশ নেয়।
শনিবার, রোববার ও সোমবার তেহরানে শোকানুষ্ঠান চলবে। মঙ্গলবার পবিত্র নগরী কোমে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বুধবার ইরাকে আরেক দফা রাষ্ট্রীয় আয়োজন শেষে খামেনির মরদেহ মাশহাদে নেওয়া হবে, যেখানে তাকে দাফন করা হবে।
রাষ্ট্রীয় এই শেষকৃত্য কর্মসূচিতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পাশাপাশি একই হামলায় নিহত তার মেয়ে, পুত্রবধূ, জামাতা এবং তিন বছর বয়সী নাতনির মরদেহও রাখা হয়েছে।
এমএ//