কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বেড়ে ১৩
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর চালানো রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৪ জন।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কিয়েভ সিটি সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তার অভিযোগ, বেসামরিক মানুষকেই লক্ষ্যবস্তু করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারা জ্বালানি-সংক্রান্ত স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর রাশিয়া ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করলেও ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন রাজধানীর ৩৩টি স্থানে আঘাত হানে।
হামলার সময় কিয়েভজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহর। বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি বহু আবাসিক ভবন, হোটেল, অ্যাম্বুলেন্স স্টেশন এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনে হামলায় অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আরও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু নিন্দা জানানো যথেষ্ট নয়; রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভ ছাড়াও মধ্য ও পূর্ব ইউক্রেনের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, রাশিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
হামলার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া একটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর তিনি আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন।
জেলেনস্কির দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দীর্ঘদিন ধরেই এই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার এবং নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এমএ//