৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে না দিলে জনগণই খুলবে: নাহিদ
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট গণভবনে স্থাপিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত দিনে এটি চালু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
জুলাই আন্দোলনের এক দফা ঘোষণাকারী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৫ আগস্টের আগেই জুলাই জাতীয় জাদুঘর সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দিতে হবে। তা না হলে ওইদিন জনগণ নিজেরাই জাদুঘর খুলে সেখানে প্রবেশের ব্যবস্থা করবে।
বুধবার (০১ জুলাই) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে এনসিপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর রায়েরবাজারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নাহিদ ইসলাম।
এ সময় এনসিপির নেতাদের মধ্যে আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জাদুঘরটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এটি উন্মুক্ত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির মাসব্যাপী কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, আজ ১ জুলাই। দুই বছর আগে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে রায়েরবাজারে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এনসিপির ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ বলেন, আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফারহান, ফাইয়াজ, রিয়াগোপসহ জুলাইয়ের প্রায় ১৪০০ শহীদকে। আমরা স্মরণ করছি আহত প্রায় ৩০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাজপথে নামা ছাত্রসমাজ পাবলিক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শ্রমিক, নিম্নবিত্ত মানুষ, নারী সমাজ, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আলেম সমাজ, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে। প্রবাসী ভাই-বোনেরা, বিদেশি বন্ধুরাও আমাদের সহযোগিতা করেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর তরুণ সদস্যরাও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন সবাইকে আমরা স্মরণ করছি।
জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা যে আকাঙ্ক্ষা করেছিল তা পূরণ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর হয়ে গেছে। আমরা বলেছিলাম, জুলাই গণহত্যার বিচার, সংস্কার এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ এখনো পাইনি।
হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়ের সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, গতকাল ট্রাইব্যুনালের একটি রায় এসেছে, যা জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারাও ন্যায়বিচার পায়নি। হাসানুল হক ইনুকে যে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেটি যথেষ্ট নয়। আমরা আপিল করে আরও কঠোর বিচার প্রত্যাশা করছি।
বিএনপি ও সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি মামলার রায় হয়েছে। বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার দাবি জানান।
জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন এবং গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। এখনো সেই কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এসি//