৪ বছর পর শিপ্রা রানী হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আলোচিত শিপ্রা রানী দাস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম ওরফে কাজল (৪২)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ চার বছর পলাতক থাকার পর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত শিপ্রা রানী দাস (৩৪) জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রান্নার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। ২০২১ সালের ১ অক্টোবর কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। তিন দিন পর নবীনগরের নবীপুর এলাকার একটি কৃষিজমি থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে নিহতের স্বামী সবিনয় দাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নবীনগর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে মামলার এক সহযোগী অভিযুক্ত কালু সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত তাজুল ইসলামকে শনাক্ত করেন।
পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার কয়েক মাস আগে থেকে তার সঙ্গে শিপ্রা রানীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে ভিকটিম শিপ্রা রানী দাস আসামির কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাদের মধ্যকার গোপন সম্পর্কের কথা ফাঁসের হুমকি দেন। এসময় আসামি কাজল ক্ষিপ্ত হয়ে ও লোকলজ্জার ভয়ে শিপ্রা রানীকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন কাজল শিপ্রা রানীকে নৌকায় নদীর তীরবর্তী একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ একটি জলার চরে ফেলে রাখা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত অব্যহত আছে।
এমএ//