আন্তর্জাতিক

লেবানন সংকটকে প্রাধান্য দিয়ে সুইজারল্যান্ডে শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সাময়িক সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির পথ তৈরি করা। পাশাপাশি বৈঠকে লেবানন ইস্যুতে একটি জরুরি অধিবেশন যুক্ত করা হয়েছে। রোববার (২১জুন) বৈঠক সম্পর্কে অবহিত কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।      

আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। রওনা দেওয়ার পূর্বে তিনি বলেছিলেন, তার অন্যতম অগ্রাধিকার হলো লেবাননে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি অর্জন করা। 

অন্যদিকে এক ইরানি কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, লেবাননের সংঘাত বন্ধ করাই ইরানি প্রতিনিধি দলের মূল লক্ষ্য।       

ইরানের দাবি, ইসরাইল যদি লেবাননে প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ না রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আর অগ্রসর হবে না। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের সংঘাত এখনো চলমান। গেল সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সই হওয়া ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের প্রথম দফা ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। 

 ওই সমঝোতার পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম মুখোমুখি আলোচনা। এতে লেবানন ছাড়াও গুরুত্ব পাবে হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যু।

শনিবার (২০জুন) ইরানের সামরিক কমান্ড ঘোষণা দেয়, লেবানন পরিস্থিতির কারণে তারা হরমুজ বন্ধ করে দেবে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। 

এদিকে, তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হলে নৌপথটিতে যুক্তরাষ্ট্র টোল আরোপ শুরু করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।     

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স। তিনি জানান, প্রাথমিক চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের পথে না হাঁটার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে। তবে দেশটির বিদ্যমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

ভ্যান্স বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এখন সুইজারল্যান্ডে শুরু হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে এর আগে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছিল অন্যতম প্রধান ইস্যু। কিন্তু এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় আগের আলোচনাগুলো অচলাবস্থায় পড়েছিল। এবার নতুন দফার আলোচনায় সেই জট কাটানোর চেষ্টা করা হবে।

 

সুত্র- সিএনএন

 

পি/ডি 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন