প্রবাস

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ভেন্যুতে বাংলাদেশি শিল্পী জিহানের চিত্রকর্ম

 আগামী ১৯ জুলাই ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেআর এই মেটলাইফ ওয়ার্ল্ডকাপ স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জে বিশাল ম্যুরাল একেঁছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান তরুণ শিল্পী জিহান ওয়াজেদ। লাউঞ্জটির সৌন্দর্য বর্ধনে ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থের চিত্রকর্মটিতে নিউজার্সি, নিউইয়র্কের পাশাপাশি মূর্ত হয়ে উঠেছে আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন নিদর্শন

শুধু স্টেডিয়াম নয়,শিল্পী জিহান ওয়াজেদর আঁকা ম্যুরাল সৌন্দর্য্য বর্ধন করে চলেছে বিশ্বের  নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে। আমেরিকার মূলধারার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ম্যুরাল এঁকে সম্প্রতি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন তিনি আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনের পাশপাশি বাংলাদেশের চিরায়ত ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীও স্থান পাচ্ছে তার আঁকা ম্যুরালে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন, নিউইয়র্কের জনএফ কেনেডি এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-ফোর, নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারে শোভা পাচ্ছে জিহানের চিত্রকর্ম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্স হাসপাতালে সাড়ে ১২শ বর্গফুটের বিশালকায় ম্যুরাল, এস্টোরিয়ায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ এ্যায়ুগমেন্টেড রিয়ালিটি ম্যুরাল, নিউজার্সির মেটলাইফ ওয়ার্ল্ডকাপ স্টেডিয়াম ও এস্টোরিয়ায় ১৭৭ ফিট দীর্ঘ ওয়েলকাম এস্টোরিয়াম্যুরালটি জিহানের শিল্পকর্মের মধ্যে অন্যতম।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটানস্থ গ্যালারীতে তার বেশ কয়েকটি একক চিত্র প্রদর্শনী ব্যাপক সাড়া জাগায় মুলধারার দর্শকের মাঝে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতেও অংশ নেন জিহান। স্টুডিওতে ছবি আঁকার পাশাপাশি তার নিজস্ব স্টাইলে ম্যুরাল আঁকছেন।

জিহান গণমাধ্যমকে জানান, তার প্রাথমিক আগ্রহ ছিল গ্রাফিতি আঁকায়। গ্রাফিতি থেকেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন ম্যুরালের নিজস্ব ও নূতন ধারা। তার এই ধারাকে পছন্দ করছে শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শহর নিউইয়কের্র শিল্পবোদ্ধারা।

সম্প্রতি বাংলাদেশী আমেরিকান ব্যবসায়ীদের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় জিহানের আঁকা বাংলাদেশ ম্যুরাল ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। ডাইভারসিটি প্লাজার দক্ষিণের ভবনটির প্রশস্থ দেয়ালেও স্থান পেয়েছে তার আকা বাংলাদেশ ম্যুরাল।

 জিহান ওয়াজেদর জন্ম তার চিকিৎসক পিতার পূর্বের কর্মস্থল লিবিয়ার বেনগাজীতে। জিহানের বাবা  নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলাদেশর সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ খান। নিউইয়র্কেই শিক্ষাজীবন শুরু জিহানের।

মেধাবী জিহান পড়াশুনা করেছেন স্টাইভ্যাসেন্ট হাইস্কুলে এবং মিকৌলে অনারি প্রোগ্রামে বারুখ কলেজ থেকে পারসেপচুয়াল সাইকোলজিতে গ্রাজুয়েশন করলেও, তার মনোযোগ একমাত্র ছবি আঁকায়।

চিত্রকর্মের উপর তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও শৈশব থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ছিল প্রবল আকর্ষন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে হয়েছেন পুরস্কৃত। বাংলাদেশের প্রকৃতি ও গ্রামীন জীবনের উপর তার রয়েছে দুর্বার আকর্ষণ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও নিজের চিত্রকর্মের ছাপ রাখতে চান জিহান ওয়াজেদ।

আই/এ

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন