প্রেমিকাকে বিয়ে না করতে অপহরণ নাটক সাজান শিবির নেতা জিসান : পুলিশ সুপার
প্রেমিকাকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের পর বিয়ে করতে না চাওয়ায় আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান। ইতোমধ্যে জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা করেছেন তার প্রেমিকা। ওই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে জিসান মিয়ার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে দাউদকান্দিতে ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর ভ্রূণ নষ্ট করতে অভিযুক্ত তাকে চাপ দেন। রাজি না হলে হত্যার হুমকি দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, একপর্যায়ে তরুণী রাজি হলে জিসান তার পরিচিত একটি ওষুধের দোকান থেকে গর্ভপাতের ওষুধ এনে তরুণীকে খাওয়ান। ওষুধ সেবনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে অভিযুক্ত আরও ওষুধের ব্যবস্থা করেন।
মো. আনিসুজ্জামান বলেন, সবশেষ ওই তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান মিয়া ১২ জুন বিয়ে করতে সম্মতি জানান। এর আগের দিন ১১ জুন সন্ধ্যার পর আত্মগোপনে চলে যান এবং তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে নিখোঁজের জিডি করান।
নিখোঁজের ঘটনার তদন্ত চলাকালে লাকসাম থানা এলাকার স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা জিসানকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে বিয়ে থেকে বাঁচতে জিসান এমন নাটক করেছে। এ ঘটনায় ঐ তরুণী চারজনকে আসামী করে মামলা করেন। মামলায় এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান (২৮), তার চাচাতো ভাই সজিব ও ভুক্তভোগী নারীর কাছে ওষুধ বিক্রি করা সেই দোকানি।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ওই শিবির নেতা শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তারপরও চিকিৎসকরা হাসপাতালে রেখেছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেই তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এখন পুলিশ পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে।
আই/এ