ক্যাম্পাস

শেকৃবি নবীনবরণ অনুষ্ঠান বর্জন করল ছাত্রশিবির

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষ্যে ছাত্রদল ব্যতীত অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ না দেয়ায় প্রতিবাদে অনুষ্ঠান থেকে ওয়াকআউট করেছে শেকৃবি ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সময় স্বল্পতার কারণে সবাইকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি।

রোববার (২৬ জুলাই) শেকৃবির টিএসসি অডিটোরিয়ামের ৩য় তলায় ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন

ওরিয়েন্টেশনে শেকৃবি ছাত্রদলের সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি বক্তব্য রাখেন২১ মিনিট ধরে তারা বক্তব্য দেয়ার পরও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ না দেয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক মো. আসাদুল্লাহ এবং ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য  সদস্যরা প্রক্টর এবং ছাত্র পরামর্শকের কাছে অভিযোগ করেন এবং  আয়োজকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন নাকি কোনো দলীয় কর্মসূচি।। এসময় তাদের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথেও কথা বলতে দেখা যায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের সাথে তাদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় এবং "ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ" বলে তারা অনুষ্ঠান বর্জন করেন। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, “নবীনবরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর অনুষ্ঠান; এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। অথচ জুলাইয়ের পূর্বের মতো আবারও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসন যদি বৈষম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সকল ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীর জন্য সমান মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাই।

 বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, “এদেশে জুলাই এসেছিল বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি প্রশাসন আবারও বৈষম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অতীতে যেমন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বাইরে কাউকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্থান দেওয়া হতো না, আজও আমরা একই ধরনের চিত্র দেখলাম। শুধুমাত্র ছাত্রদলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বক্তব্যের সুযোগ না থাকলে কারওই থাকা উচিত নয়। আর যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা সব সংগঠনের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র একটি দলকে সুযোগ দেওয়া দৃশ্যত বৈষম্য। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই আমরা আজকের অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।

 পরবর্তীতে এব্যপারে প্রক্টর ড. আরফান আলীর কাছে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে বক্তৃতায় না রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, "সময় স্বল্পতার কারণে আমরা অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে সুযোগ দিতে পারিনি। তাদেরকে গত রাতেই জানানো হয়েছিল তাদের বক্তব্যের অংশ থাকবে না। এত বড় একটা আয়োজনে ছাত্রদের এইরকম আচরণ করা ঠিক হয়নি।"

অনুষ্ঠানে মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য মিজ সানজিদা ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পূর্ববর্তী কমিটির এক নেতাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন