বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস!
একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের উত্তাপ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা। বৈশ্বিক অর্থনীতির এই দুই বড় চাপের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পণ্যবাজারে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দাম টানা কমছে, বিপরীতে সরবরাহ-ঝুঁকির আশঙ্কায় বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের মূল্য। ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারেও।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (০৮ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২১ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে শুক্রবার প্রায় ৩ শতাংশ দরপতনের মাধ্যমে স্বর্ণের দাম গত ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ।
একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৈরুতের উপকণ্ঠে হামলার জবাবে ইরান ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানাবেন।
অন্যদিকে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে, যা স্বর্ণবাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
ক্লিভল্যান্ড ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক বলেছেন, সাম্প্রতিক কর্মসংস্থান তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার বর্তমানে মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রায় পূর্ণ কর্মসংস্থানের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেডারেল রিজার্ভকে শিগগিরই সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।
মে মাসে টানা তৃতীয় মাসের মতো শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এতে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়লেও ফেডের জন্য সুদের হার স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টানা ১৯তম মাসের মতো দেশটির স্বর্ণের রিজার্ভ বেড়েছে। বর্তমানে চীনের রিজার্ভে রয়েছে ৭৪ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ফাইন ট্রয় আউন্স স্বর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামার কারণে গত সপ্তাহে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। একই সময়ে চীনের বাজারেও স্বর্ণের প্রিমিয়াম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
এ ছাড়া ২ জুন সমাপ্ত সপ্তাহে স্বর্ণের ফটকাবাজরা তাদের নেট লং পজিশন ১৪ হাজার ৪০৯টি কন্ট্রাক্ট বাড়িয়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪১-এ উন্নীত করেছেন।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতনের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলে সাধারণত দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে যে কোনো সময় স্বর্ণের দাম পুনরায় সমন্বয় করা হতে পারে।
এর আগে গত ৬ জুন সর্বশেষ স্বর্ণের দাম কমায় বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে দাম কমানো হয় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।
বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। ২১ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।
অন্যদিকে মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।
স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭ দশমিক ৫২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৩১ দশমিক ৫১ ডলারে পৌঁছেছে।
এসি//