ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তি ‘সংকটপূর্ণ’ পর্যায়ে, দাবি মার্কিন গণমাধ্যমের
ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্য বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের গোয়েন্দা সংস্থা ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকির মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে ‘সংকটপূর্ণ’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
শনিবার (০৬ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ প্রথম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরদিন একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। উভয় গণমাধ্যমই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) আশঙ্কা করছে, ইসরাইল সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি কার্যক্রম বাড়িয়েছে। বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের ভেতরে ইরান যুদ্ধের অবসান নিয়ে চলা আলোচনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান সংঘাত শুরু হয়। এরপর যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অবস্থানে প্রকাশ্য পার্থক্য দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধ পুনরায় শুরুর আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়েছে। তবে ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে ডিআইএ মূল্যায়ন করেছে। ওই সময় গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন চাপ বাড়াতে শুরু করেছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের নীতিনির্ধারক এলব্রিজ কোলবি এবং তার ডেপুটি মাইকেল ডিমিনো চতুর্থের ওপরও নজরদারির চেষ্টা হয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আগে স্টিভ উইটকফ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুখপাত্র এনবিসি নিউজ ও নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এ ধরনের প্রতিবেদন “মিথ্যা”।
এরপরও বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরাইলকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে। একই সঙ্গে দুই দেশের অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গভীরভাবে একীভূত করার প্রস্তাব বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসে আলোচনায় রয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি, ডিআইএর সর্বশেষ মূল্যায়নে ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য সব মিত্র দেশের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালে ডিআইএ সদর দপ্তরে আড়িপাতা যন্ত্র স্থাপনের চেষ্টা এবং ২০২৫ সালে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের একটি গাড়িতে একই ধরনের ডিভাইস বসানোর চেষ্টার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এমএ//