দেশজুড়ে

কবরস্থানের জায়গা দখল করে বিএনপির কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পারিবারিক কবরস্থানের ওপর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নির্মাণ, ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল, বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ করেছে দুই ভুক্তভোগী পরিবারঅভিযুক্ত দুই নেতা হলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ ও সদর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মোঃ সজু মিয়া।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা সাখাওয়াত আলী খান বাবুল ও অষ্টগ্রাম উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো: জনি মিয়া

লিখিত বক্তব্যে বাবুল অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে তার বড় চাচা মাহবুব আলী খানের কাছ থেকে দুইটি টিনশেড ভবনসহ ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বসতভূমি ২০ লাখ টাকায় দলিলমূলে ক্রয় করেন। ওই সম্পত্তিতে তার পরিবারের দীর্ঘদিনের বসবাস ছিল এবং সেখানে পারিবারিক কবরস্থানও রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হামলা-মামলার শিকার হয়ে ২০১০ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে যান। দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফিরে এসে দেখেন তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি অষ্টগ্রাম উপজেলা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: সজু মিয়া নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বারবার যোগাযোগ করেও তিনি কোনো সমাধান পাননি।

বাবুলের অভিযোগ, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার পারিবারিক কবরস্থানের একটি অংশে রাতারাতি আধাপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয় এবং সেটিকে বিএনপির দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করা হয়। দলীয় কার্যালয় নির্মাণের সময় অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকে তিনি স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

একই সংবাদ সম্মেলনে মো. জনি মিয়া অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালে অষ্টগ্রাম উপজেলা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সজু মিয়ার কাছ থেকে দুইতলা একটি পুরাতন ভবনসহ ৩ শতাংশ বসতভিটা ১৬ লাখ টাকায় সাফ কাওলা দলিলের মাধ্যমে তিনি ক্রয় করেন। সম্প্রতি ভবনের বিভিন্ন অংশের প্লাস্টার খসে পড়ায় সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য রাজমিস্ত্রি নিয়োগ করে কাজ শুরু করতে গেলে সজু মিয়া বাধা দেন। সংস্কার কাজ চালিয়ে যেতে হলে তাকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার পরিবারকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তিনি রাত্রি যাপন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা কেন কারও জমি দখল করব? যে ঘরটি দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি সজু মিয়ার কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। জায়গাটিও তার বলে আমরা জানি। কবরস্থানের ওপর দলীয় কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগও সঠিক নয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সজু মিয়া বলেন, জনি মিয়ারা আমাদের কাছ থেকে জায়গা ও ঘর ক্রয় করেছে। তারা তাদের সম্পত্তিতে কাজ করতে চাইলে আমরা বাধা দিইনি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে,তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জমি দখল উচ্ছেদ বা হুমকির অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

আই/এ

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন