তাপদাহে পুড়ছে দেশ, কমতে পারে শনিবার থেকে
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৪৫ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।
বুধবার (০৩ জুন) দেশের ৪৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক জেলায় তাপপ্রবাহের ঘটনা। তবে আজ বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) তা কিছুটা কমে ৪৫ জেলায় নেমেছে।
সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে দেশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে। তবে এবার এখনো মৌসুমি বায়ুর দেখা মেলেনি। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই জানিয়েছিল, জুন মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান তাপপ্রবাহ শুক্রবারও কিছু এলাকায় অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কোথাও কোথাও তা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করতে পারে। একই সঙ্গে দেশের আট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তবে এতে গরম পুরোপুরি কমে যাবে—এমন সম্ভাবনা কম।
বুধবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বেশিরভাগ এলাকায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এই পাঁচ বিভাগের ৪৫ জেলার পাশাপাশি চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও তাপপ্রবাহ ছিল। সব মিলিয়ে তাপপ্রবাহের আওতায় ছিল ৪৮ জেলা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে জানান, চলতি বছরে এত বেশি এলাকায় একসঙ্গে তাপপ্রবাহের রেকর্ড নেই। তবে শুক্রবার থেকে তাপপ্রবাহের বিস্তার কিছুটা কমে আসতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী দেশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। মৌসুমি বায়ু প্রবেশের তিন থেকে চার দিন পর দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে।
গত বছর ২৫ মে দেশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছিল। সাধারণত ৩১ মে’র মধ্যে এ বায়ু প্রবেশ করে এবং এর প্রভাবে বৃষ্টি শুরু হয়। তবে এবার মৌসুমি বায়ু দেরিতে আসায় বৃষ্টিও দেরিতে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
উল্লেখ্য, বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে, ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সাধারণত দেশে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে এপ্রিল মাসে, এরপর মে মাসে। তবে চলতি বছর এপ্রিল ও মে মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
এমএ//