কুড়িগ্রামের বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলন অনুষ্ঠিত
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৫ বছর পূর্তি ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা।
শুক্রবার (২৯ মে) বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়।
সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষক, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বালারহাট বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
শোভায় অংশ গ্রহন করে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা, নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকারসহ অনেকে।

এরপর আয়োজক কমিটির উদ্যোগে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শেষ বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়।
পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশনের রাত ৮ টায় বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান রতনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু, নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার, পশ্চিম ফুলমতি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান, সহকারী শিক্ষক মোক্তার আলী, অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাবেক ছাত্র অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম প্রমূখ।
আলোচনা সভা শেষে খেলাধুলায় বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করায়। এ সময় গুণীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
পরে রাত ১০ টায় বিশিষ্ট ম্যাজিক সিয়ানের প্রদর্শনীসহ এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত দেড়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাবেক শিক্ষার্থী লিলিমা, শাহিনুর ও রোকেয়া বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর পর আমাদের প্রিয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে আবারও দেখা হওয়ার সুযোগ হয়েছে। দীর্ঘদিন পর সবার সঙ্গে একত্রিত হতে পেরে আমরা সত্যিই ভীষণ আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কুড়িগ্রাম জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী আশরাফুল আলম এবং তাঁর সহযোগী প্রাক্তন ছাত্র সোহেল রানা জানান, স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত, আনন্দঘন ও স্মরণীয় করে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। এই পুনর্মিলনী আয়োজনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১০ থেকে ২০ বছর পর বহু শিক্ষক, সহপাঠী ও বন্ধু-বান্ধব একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল আনন্দ, আবেগ ও উচ্ছ্বাসের এক অনন্য মেলবন্ধন। পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিক মিলন এবং বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর সাক্ষাৎ সবার মনে নতুন করে নাড়া দিয়েছে। এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
প্রতিষ্ঠানটি সৃষ্টিলগ্ন থেকে কর্মরত জেষ্ঠ্য সহকারী শিক্ষক মোক্তার আলী জানান, এই ৩৫ বছর বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আমার সেই প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী অচেনার পথে। এই অচেনা মুখগুলো ৩৫ বছর পর আবারও সামনে। এটা খুবই গৌরবের বিষয়। আমার কাছে এটা সত্যিই ইতিহাস হয়ে থাকবে।
ওই প্রতিষ্ঠানটির আরেক সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান রতন জানান, আজকের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠান ও অত্র এলাকার সার্বিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হলো।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু বলেন, “অনেক স্বপ্ন, ত্যাগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি নিজ হাতে গড়ে তুলেছি। শিক্ষকতা থেকে অবসরে গেলেও এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার ভালোবাসা, আবেগ ও আত্মার টান আজও আগের মতোই রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের এমন প্রাণবন্ত মিলনমেলা দেখে সত্যিই আমি আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত।
বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, প্রতিষ্ঠানের ৩৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ২টা পর্যন্ত অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি সত্ত্বেও আয়োজকরা আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
আই/এ