ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে ২৭ হাটসহ সারা দেশে বসছে ৩৬০০ পশুর বাজার
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি জোরেশোরে শুরু হয়েছে। সরকার ও সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজধানীতে ২৭টিসহ সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টিরও বেশি পশুর হাট বসবে। ইতোমধ্যে এসব হাটে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছেন ইজারাদাররা।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টিসহ মোট ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রম শেষ হয়েছে। অনেক স্থানে ইতোমধ্যে বাঁশ, শামিয়ানা, ছাউনি ও মাইক স্থাপনের কাজ চলছে। পাশাপাশি হাসিল ঘর, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এবার পশু সংকটের আশঙ্কা নেই। হাটের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পশু রাজধানীসহ বড় বাজারগুলোতে আসতে শুরু করবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই ঢাকার বিভিন্ন হাটে গরু নামানো শুরু হতে পারে।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে একাধিক ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে আরও সাজসজ্জা ও অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করা হবে। তাদের আশা, শুক্রবার থেকে বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির পশু আসা শুরু হবে এবং ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, হাটে বেচাকেনাও তত জমে উঠবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, এবার কোনোভাবেই সড়ক বা অননুমোদিত স্থানে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। নিয়ম মেনেই সব ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ক্রেতাদের স্বাচ্ছন্দ্যে পশু কেনাবেচার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির বর্জ্য যেন যেখানে-সেখানে না পড়ে, সে জন্য প্রতিটি হাটে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে।
দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, এবার পাঁচ দিনব্যাপী পশুর হাটে কেনাবেচা চলবে।
অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় পশুর হাট বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে সরকার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সপ্তাহ থেকেই দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির পশু আসা শুরু হবে।
এসি//