দেশজুড়ে

বেড়িবাঁধ থেকে কলেজছাত্রের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, ১০ দিনেও ফেরেনি জ্ঞান

সাভারের আশুলিয়ায় রহস্যজনক হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত এক কলেজছাত্র ১০ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর থেকে এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি। এ ঘটনায় মামলা হলেও হামলার রহস্য উদঘাটন কিংবা কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

আহত শিক্ষার্থীর নাম নাদিম হোসেন। তিনি আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ঘোষবাগ এলাকার বোরাক পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গেল ২৭ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে নাদিম তার ফুফাতো বোনের সঙ্গে দেখা করতে খেজুর বাগান এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে হোস্টেল থেকে বের হন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়া বাজার সংলগ্ন ব্রিজের পূর্ব পাশে বেড়িবাঁধ সড়কে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা জানান, নাদিমের মাথা ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার মুখমণ্ডলও থেঁতলানো ছিল। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর নাদিমের বাবা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কারও সঙ্গে বিরোধে জড়িত ছিল বলে কখনও শুনিনি। বন্ধুরাও কিছু বলতে পারছে না। আমি কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও ছেলের জ্ঞান ফেরেনি। আমরা বিচার চাই।’

পরিবারের সদস্য ও নাদিমের বন্ধুরা ধারণা করছেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটিও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেটি সচল করার চেষ্টা চলছে। মোবাইলের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সূত্র খোঁজা হচ্ছে।’

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন