আন্তর্জাতিক

ঘন অরণ্যের অন্তরালে রহস্যময় ‘করোয়াই গোষ্ঠী’, শাস্তি হিসেবে মানবভক্ষণ

সভ্যতার আলো থেকে বহু দূরে, পাপুয়া নিউ গিনির ঘন অরণ্যের গভীরে এখনো টিকে আছে এমন কিছু বিচ্ছিন্ন জনপদ, যাদের জীবনযাপন ও বিশ্বাস আধুনিক বিশ্বের কাছে একই সঙ্গে বিস্ময়কর, রহস্যময় এবং কখনও কখনও ভীতিকর। তেমনই একটি আদিবাসী গোষ্ঠী ‘করোয়াই সম্প্রদায়’, যাদের কিছু প্রথা আন্তর্জাতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরেই কৌতূহল ও আতঙ্কের জন্ম দিয়ে আসছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, করোয়াই সম্প্রদায়ের মধ্যে চুরি বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করে তার দেহ ভক্ষণ করার মতো শাস্তিমূলক প্রথা প্রচলিত ছিল বা রয়েছে। তবে তাদের কাছে এটি সাধারণ খাদ্যাভ্যাস নয়; বরং নিজস্ব বিচারব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচিত।

ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ড্রু বিনস্কি সম্প্রতি ওই অঞ্চলে সফর করে করোয়াই এবং তাদের প্রতিবেশী মোমুনা সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, করোয়াইদের বিশ্বাসব্যবস্থা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে ‘খাকুয়া’ নামের এক ধরনের অশুভ আত্মার ধারণার সঙ্গে।

করোয়াইদের বিশ্বাস, রহস্যজনক মৃত্যু, অস্বাভাবিক অসুস্থতা বা অজানা বিপর্যয়ের পেছনে এই ‘খাকুয়া’ দায়ী হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি এ ধরনের অশুভ শক্তির বাহক বা উৎস বলে সন্দেহভাজন হন, তাহলে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। এই শাস্তি তাদের কাছে কেবল প্রতিশোধ নয়, বরং সামাজিক ও আধ্যাত্মিক ভারসাম্য রক্ষার একটি অংশ।

আধুনিক সভ্যতা থেকে এখনো অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এই জনগোষ্ঠীর জীবনযাপনও বেশ স্বতন্ত্র। তারা সাধারণত খুব কম পোশাক পরিধান করে, শিকার ও আত্মরক্ষার জন্য ধনুক-বাণ ব্যবহার করে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশনির্ভর জীবনধারা অনুসরণ করে।

গবেষকদের মতে, ১৯৭৪ সালের আগে পর্যন্ত করোয়াই সম্প্রদায়ের অনেক সদস্য বাইরের বিশ্বের অস্তিত্ব সম্পর্কেই খুব সীমিত ধারণা রাখত। ফলে তাদের সামাজিক রীতি, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক কাঠামো দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় অক্ষত ছিল।

নৃবিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানবভক্ষণ একসময় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাচীন সমাজে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখা গেলেও আধুনিক যুগে এমন প্রথার উল্লেখ খুবই বিরল। করোয়াইদের মতো বিচ্ছিন্ন কিছু জনগোষ্ঠীকে ঘিরেই মূলত এ ধরনের আলোচনা বেশি শোনা যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, করোয়াই সম্প্রদায়কে ঘিরে প্রচলিত বহু তথ্য ভ্রমণকাহিনি, পর্যবেক্ষণ ও সীমিত গবেষণার ওপর নির্ভরশীল। তাই এসব দাবির সত্যতা ও প্রেক্ষাপট বুঝতে আরও গভীর, নির্ভরযোগ্য এবং নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।

অরণ্যের অন্তরালে বসবাস করা এই জনগোষ্ঠী তাই শুধু রহস্যের নয়, মানবসভ্যতার বৈচিত্র্য, বিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

সূত্র: ডেইলি এক্সপ্রেস

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন