রোবট কুকুরের মুখে মাস্ক-জাকারবার্গ-কিম জং উন!
জার্মানির বার্লিন শহরের একটি আধুনিক আর্ট গ্যালারিতে শুরু হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও কৌতূহলোদ্দীপক শিল্প প্রদর্শনী, যেখানে দেখা যাচ্ছে রোবট কুকুর—যাদের মুখে বসানো হয়েছে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিখ্যাত শিল্পীদের প্রতিচ্ছবি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
প্রদর্শনীর এই অভিনব শিল্পকর্মটি তৈরি করেছেন এক মার্কিন ডিজিটাল শিল্পী। “রেগুলার অ্যানিম্যালস” নামের এই প্রদর্শনীতে রোবট কুকুরগুলো গ্যালারির ভেতরে ঘুরে বেড়ায়, একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং দর্শকদের সঙ্গে মিশে যায়।
এই রোবট কুকুরগুলোর মুখে ব্যবহার করা হয়েছে ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস, মার্ক জাকারবার্গের মতো প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি পাবলো পিকাসো ও অ্যান্ডি ওয়ারহলের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের চেহারা। এমনকি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রতিচ্ছবিও সেখানে স্থান পেয়েছে।
প্রতিটি রোবট কুকুরে ক্যামেরা সংযুক্ত রয়েছে, যা চারপাশের পরিবেশ ধারণ করে। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সেই দৃশ্য বিশ্লেষণ করে ছবি তৈরি করা হয় এবং তা প্রিন্ট আকারে বেরিয়ে আসে। এই প্রক্রিয়াটি অনেকটা ব্যঙ্গাত্মকভাবে কুকুরের স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
প্রিন্ট হওয়া প্রতিটি ছবির ধরন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট রোবট কুকুরের মুখে থাকা ব্যক্তিত্বের ওপর। যেমন, পাবলো পিকাসোর মুখযুক্ত রোবট কুকুর ছবিকে কিউবিস্ট ধাঁচে ভেঙে উপস্থাপন করে, আর অ্যান্ডি ওয়ারহলের প্রতিচ্ছবি থাকা কুকুর সেটিকে পপ আর্টের রূপ দেয়।
শিল্পীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাজের মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন কীভাবে আধুনিক সময়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাভাবনা এবং বাস্তবতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করছে প্রযুক্তি ও অ্যালগরিদম, যা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবাধীন।
তার মতে, একসময় শিল্পীরা সমাজের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে দিতেন, কিন্তু বর্তমানে সেই ভূমিকা অনেকাংশেই দখল করে নিয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর অ্যালগরিদম, যা নির্ধারণ করে মানুষ কী দেখবে বা দেখবে না।
প্রদর্শনীর কিউরেটর জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন মানবজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তন নিয়ে ভাবনার সুযোগ তৈরি করাই এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য।
অদ্ভুত ও চিন্তাজাগানো এই রোবট কুকুর প্রদর্শনী ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং শিল্পজগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এসি//