ইরানের অধিকার কেড়ে নেয়ার ট্রাম্প কে, প্রশ্ন পেজেশকিয়ানের
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিষয়টি এখন কার্যত দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কোন যুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বাধীন দেশের অধিকার সীমিত বা কেড়ে নিতে চাইছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ট্রাম্প বলছেন ইরান তার পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করতে পারবে না, কিন্তু তিনি এটা বলছেন না যে, আমাদের অপরাধটা কী? একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে, যে একটি জাতির অধিকার হরণ করতে চান? তিনি অভিযোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে রাজি হয়েছে।
তবে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। বাঘাই অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থাতেই এটি অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে না।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলত চিকিৎসা গবেষণা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়।
২০১৫ সালে বিশ্বের ছয়টি পরাশক্তির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইরান তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ করেছে বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য ইরানের নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অবস্থান এবং ইরানের এই অনড় মনোভাব মিলিয়ে পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই বিতর্ক এখন বৈশ্বিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, অন্যদিকে তেহরান এটিকে তাদের সার্বভৌম অধিকারের অংশ হিসেবে দেখছে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: ফারস নিউজ
এসি//