আন্তর্জাতিক

মার্কিন হামলা আত্মরক্ষা নয়, সরাসরি আগ্রাসন: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখানোর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান বলছে, এটি আত্মরক্ষা নয়; বরং সরাসরি আগ্রাসন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট অবমাননা।

বুধবার (০৩ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে। 

তেহরানের দাবি, এ পরিস্থিতির দায় শুধু ওয়াশিংটনের নয়; বরং যেসব দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে তাদেরও।

বিবৃতিতে বিশেষভাবে কুয়েত ও বাহরাইনের নাম উল্লেখ করে ইরান অভিযোগ করেছে, এসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি থেকে পরিচালিত কর্মকাণ্ড অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সুযোগ দেয়, তাহলে ওই দেশের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং কেশম দ্বীপের একটি যোগাযোগ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এর জবাবে একটি মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানায় আইআরজিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরান কুয়েতের দিকে দুটি এবং বাহরাইনের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে সেগুলো মাঝপথে ধ্বংস হয়ে যায় অথবা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়।

তবে পরে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, একটি ইরানি ড্রোন দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে। এতে বিমানবন্দরের অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন