নেতানিয়াহুর ফোন কলেই ‘শান্তি আলোচনা’ থেকে পিছু হটে যুক্তরাষ্ট্র
ইসলামাবাদে চলমান আলোচনার সময় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে।
ইরানের অভিযোগ, ওই ফোনকলের পর থেকেই আলোচনার গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন আসে এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি এক্সে লিখেছেন, ‘বৈঠকের মাঝে নেতানিয়াহুর ভ্যান্সকে করা ফোন মার্কিন-ইরান আলোচনার মনোযোগ সরিয়ে ইসরাইলের স্বার্থের দিকে নিয়ে গেছে। যুদ্ধে যা পারেনি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে সেটা পেতে চেয়েছে।’
তার এই পোস্টে ইঙ্গিত মিলছে, শুরুতে জেডি ভ্যান্সের প্রতিনিধি দল আলোচনায় আগ্রহী থাকলেও সেই ফোনকলের পরই সুর বদলে ফেলে।

তিনি বলেন, ইরান সদিচ্ছা নিয়েই পাকিস্তানে আলোচনায় গিয়েছিল। ভ্যান্সের বিদায়ের আগের সংবাদ সম্মেলনকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলেছেন তিনি। আরাগচি জানিয়েছেন, ইরান ‘জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রস্তুত।’ ওয়াশিংটন নেতানিয়াহুর ফোনের বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
তেহরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলামাবাদে মার্কিন অবস্থান ছিল অগ্রহণযোগ্য। ওয়াশিংটন শুধু হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত নৌচলাচলই চায়নি, একই সাথে ইরানের পুরো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ ও বিদ্যমান মজুদ হস্তান্তরের দাবিও করেছে। ভ্যান্স এই শর্তগুলো ‘চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব’ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
আলোচনা ভেঙে পড়ার পর তেলের বাজারে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
জানা গেছে, ৯ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের ওপরে উঠেছিল। তবে যুদ্ধবিরতির পর তা নেমে আসে ৯৫ ডলারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে তেলের দাম আবারও তিন অঙ্কের ঘরে ফিরে যেতে পারে।