শান্তি আলোচনা করতে ইসলামাবাদে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাচ্ছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা মোগাদাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানান, ইসরাইলি বাহিনীর একাধিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে তেহরানে জনমনে ক্ষোভ ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তবে বৃহত্তর শান্তির স্বার্থে ইরান তাদের প্রস্তাবিত ১০ দফা দাবির ভিত্তিতে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই আলোচনার ক্ষেত্রে বড় একটি জটিল বিষয় হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী।
ইরান আগেই সতর্ক করেছিল, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ ওই জলপথ অতিক্রম করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে এই প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক ব্রিফিংয়ে বলেন, চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ খুলে দিতে পারে।
তার দাবি অনুযায়ী, প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলেও আলোচনার টেবিলে ইরানের মনোভাব তুলনামূলকভাবে নমনীয়।
তিনি আরও জানান, মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র মাধ্যমে ইরানের নৌ, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছে। ইসলামাবাদের আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও অংশ নেবেন।
তবে আলোচনার মূল ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়েছে। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এই সম্ভাব্য চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই বৈঠককে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হবে নাকি শান্তির পথে অগ্রগতি আসবে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর নজর রাখা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।
এসি//