আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানের ইতিহাসে সেরা কূটনৈতিক জয়

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান তীব্র সংঘাতের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে পাকিস্তান।

তবে এই ঐতিহাসিক অর্জনের মুহূর্তেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ-এর একটি ভুল ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। মূলত একটি এক্স পোস্টে ‘ড্রাফট’ লেখা থাকায় বিষয়টি বিতর্কে রূপ নেয় এবং রীতিমতো হাসির খোরাকে পরিণত হয়ে দ্রুতই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসলামাবাদ নীরবে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে পাকিস্তান। বিশ্লেষকরা বলছেন এটি গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের অন্যতম বড় কূটনৈতিক বিজয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের নেতৃত্বে সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে ইসলামাবাদে বৈঠক হয়। পাশাপাশি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এই ত্রিমুখী প্রচেষ্টার ফলেই গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই চুক্তিতে লেবাননের যুদ্ধবিরতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা বিশ্লেষকদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।

কিন্তু এত বড় আন্তর্জাতিক সাফল্যের আলো অনেকটাই কেড়ে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্ট। চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগে শেহবাজ শরীফ এক্স-এ একটি পোস্ট করে ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়ানোর এবং ইরানকে শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান।

কিন্তু এক্স-এর এডিট হিস্ট্রি ফিচারে দেখা যায় চূড়ান্ত পোস্টের এক মিনিট আগে দেওয়া সংস্করণে লেখা ছিল 'Draft Pakistan's PM message on X'। মূলত না পড়েই নির্দেশনা সহ পুরো বার্তাটি কপি পেস্ট করায় এই বিপত্তি ঘটেছে। নেটিজেনরা তাৎক্ষণিকভাবে এর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন যিনি ঠিকমতো একটি টুইট করতে পারছেন না তিনি এত বড় একটি দেশ চালাবেন কীভাবে?

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে নির্দেশনার ভাষা নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কেউ খসড়া তৈরি করলে সাধারণত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক্সপোস্ট লেখার কথা। কিন্তু ইংরেজিতে 'পাকিস্তানস পিএম মেসেজ' লেখা থাকায় অনেকেই সন্দেহ করছেন এই ড্রাফটটি হয়তো যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তানের বাইরের কোনো প্রভাবশালী পক্ষ তৈরি করে দিয়েছে। ট্রাম্প যে বার্তা দিতে বলেছেন শেহবাজ শরীফ স্রেফ সেটি পোস্ট করেছেন বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।

১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির এমন একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাকিস্তানের এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক মধ্যস্থতা এখন প্রধানমন্ত্রীর এই বিব্রতকর টুইট কান্ডের ছায়ায় বেশ ভালোভাবেই ঢাকা পড়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন