হরমুজ সংকট এখনো কাটেনি
যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন
ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন দেখা গেছে। তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা।
মঙ্গলবার (০৮ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন। ফলে মার্কিন ক্রুড তেলের দাম আফটার-আওয়ার্স লেনদেনে ১৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের নিচে নেমে আসে। একই সময়ে ব্রেন্ট তেলের দামও প্রায় ১৩ শতাংশ কমে প্রায় ৯৫ ডলারে দাঁড়ায়।
এই ঘোষণার প্রভাব পড়ে বিশ্ব শেয়ারবাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচকগুলোতে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়, পাশাপাশি এশিয়ার বাজারেও বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা যায়। বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান।
তবে যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। বিশ্বে ব্যবহৃত তেলের বড় অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি সাময়িক এবং তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্ট জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা অনুযায়ী সব বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজারে স্বস্তি এলেও হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা দূর না হলে দীর্ঘমেয়াদে তেলের বাজার অস্থিরই থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক সময় প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দৈনিক কোটি কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
সার্বিকভাবে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বাজারে ইতিবাচক সাড়া মিললেও বাস্তবে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হয়, তা এখনো দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস
এমএ//