আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে শেষ মুহূর্তে নাটকীয় মোড় নিল পরিস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের হামলা অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে একটি সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত মিলেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান।

মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর বিশেষ অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই স্থগিতাদেশের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে একটি স্পষ্ট শর্ত—ইরানকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ করে জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে।

এই ঘোষণার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা থেকে বিরত থাকে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও দুই সপ্তাহের জন্য প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ সীমিত রাখবে এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পেয়েছে ওয়াশিংটন, যা একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার আশা, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শাহবাজ শরিফ আগেই প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং একই সঙ্গে ইরানকে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার অনুরোধ করেন। হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে, এই প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের অবস্থানও সামনে এসেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র কার্যালয় জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের এই সাময়িক বিরতিকে সমর্থন করলেও যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এ পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোকাদ্দাম মন্তব্য করেছেন, সংকটের সবচেয়ে সংবেদনশীল ধাপ থেকে পরিস্থিতি এখন কিছুটা এগিয়েছে। তার মতে, পরবর্তী সময়ে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংযমই এই সংকট সমাধানের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আকস্মিক এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা আপাতত কমিয়ে এনেছে। তবে আগামী দুই সপ্তাহ—এই সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন