আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশিসহ ১০৫ যাত্রী নিয়ে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবি, নিখোঁজ ৭০

ছবি: সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রাকালে আবারও ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী নিয়ে যাওয়া একটি কাঠের নৌকা ডুবে যায়। ইতালির কোস্টগার্ডের উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত এবং ২ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৭০ জন।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সবাই পুরুষ। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইতালির কোস্টগার্ড এবং মানবিক সহায়তা সংস্থা মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যানের তথ্য উদ্ধৃত করে রোববার (০৫ এপ্রিল) এই খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা জানিয়েছেন, নৌযাত্রার সময় ভয়াবহ আবহাওয়া এবং বিশাল ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য জার্মান সংস্থা সি-ওয়াচ একটি বিমান পাঠায়, যা থেকে ধারণ করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায় উল্টে যাওয়া কাঠের নৌকার ওপর কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশী আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছেন।

মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান জানায়, শনিবার বিকেলে লিবিয়ার তাজাউর উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করা কাঠের নৌকাটি ভূমধ্যসাগরের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (এসএআর) জোনে ডুবে যায়। নৌকাটিতে মোট ১০৫ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও ছিল। দুর্ঘটনাটি ঘটে লিবিয়ার বৌরি অয়েল ফিল্ড থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে।

সংস্থাটির মতে, উদ্ধার হওয়া ৩২ জন এবং নিহত ২ জনকে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নেওয়া হয়েছে। বাকিদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এক্সে দেয়া এক বার্তায় সংস্থাটি নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিরাপদ ও কার্যকর অভিবাসন নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইউরোপে প্রবেশের জন্য ভূমধ্যসাগর এখনো অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নিয়মিতভাবে ইতালি ও গ্রিসের উদ্দেশে এই বিপজ্জনক পথ পাড়ি দেন।

 

তবে এই রুটটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতি বছরই হাজারো মানুষ প্রাণ হারান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন