ইরান এখনও ট্রাম্পের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ
মাত্র চার দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশে কার্যত আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে এবং দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে মার্কিন বিমান বাহিনী এখন নির্বিঘ্নে বি-৫২ বোমারু বিমান পরিচালনা করতে সক্ষম।
তার এই বক্তব্যের অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। ইরান দাবি করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে—যা সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে তাদের বড় ধরনের সামরিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিধ্বস্ত বিমানটি ভারী বোমারু নয়, বরং একটি দ্রুতগামী যুদ্ধবিমান ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর একটি ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপরজনের অবস্থান এখনো অজানা। ধারণা করা হচ্ছে, যদি ওই পাইলট ইরানি বাহিনীর হাতে বন্দী হয়ে থাকেন, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে আটক কোনো মার্কিন বিমানসেনাকে প্রকাশ্যে দেখানো হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যেই যুদ্ধকে ঘিরে জনমনে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
এই সংঘাতকে ঘিরে আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠেছে মার্কিন নেতৃত্বের কৌশল নিয়ে। সমালোচকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই সংঘাত শুরু করার পক্ষে একটি সুস্পষ্ট ও যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এবং ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী শাসন পরিবর্তনের উদ্দেশ্যও অর্জিত হয়নি।
তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভূপাতিত বিমানসংক্রান্ত এই ঘটনা ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
এরপরও বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি মার্কিন বিমানসেনা সত্যিই আটক হয়ে থাকেন, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও ইরান এখনো এমন একটি পক্ষ হিসেবে রয়ে গেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় রাজনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে সক্ষম।
সূত্র: বিবিসি
এসি//