আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানে বসবে না ইরান

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত থামাতে একাধিক দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব অগ্রগতি আনতে পারেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান ইতোমধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী দিনগুলোতে আলোচনার জন্য তারা ইসলামাবাদে কোনো প্রতিনিধি পাঠাবে না। মূলত ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত শর্তগুলোকে ইরান “অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করায় বর্তমান কাঠামোর আলোচনার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

এই অবস্থায় কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে তুরস্ক ও মিশর নতুন বিকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে। মধ্যস্থতার কেন্দ্র হিসেবে ইসলামাবাদের বাইরে কাতার এবং ইস্তাম্বুলকে সম্ভাব্য নতুন ভেন্যু হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এর আগে অ্যাক্সিওস–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছিল। ওই সময় সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কথা বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

একই দিন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পক্ষ থেকেই নাকি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এসেছে। তবে তিনি শর্ত দেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি “মুক্ত, নিরাপদ ও অবাধ” না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো চুক্তি বিবেচনা করবেন না। এমনকি শর্ত পূরণ না হলে ইরানকে সামরিক হামলার মাধ্যমে “ধ্বংসের পর্যায়ে” বা তাঁর ভাষায় “প্রস্তরযুগে” ফিরিয়ে নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই তেহরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, যুদ্ধবিরতি চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ “মিথ্যা ও ভিত্তিহীন”।

এরই মধ্যে শুক্রবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস-এর বরাতে একটি সূত্র দাবি করে, গত বুধবার একটি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রই ইরানের কাছে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, যা তেহরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।

 

এসি//

 
 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন