স্বাস্থ্য

বাড়ছে হামের প্রকোপ, ২১ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মার্চ মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাম রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে নেয়ার পরেও ৯ শিশুকে বাঁচানো যায়নি। রাজশাহী ছাড়াও ময়মনসিংহে ৩, ঢাকায় ৬ শিশু মারা গেছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সংক্রমণ এখন নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রায় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণত বসন্তকালে শুরু হওয়া এ ধরনের প্রকোপ প্রায় দুই মাস স্থায়ী হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, ভোলায় সংক্রমণ বেশি। অন্য কিছু জেলায়ও শিশুরা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১৮ মার্চ এক এবং ২৬ মার্চ দুই শিশু মারা গেছে। চলতি মাসের ২৮ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে দেড় হাজার ছাড়িয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউ-প্রধান ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, গত ১০ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৪ শিশু আইসিইউতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে মারা গেছে। জানা গেছে এরা হামসহ অনান্য রোগে আক্রান্ত ছিল।

রাজশাহীর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা বেশি খারাপ। পাবনা সদর হাসপাতালে আজ ২৬ জন হামের রোগী ভর্তি ছিল। আলাদা ওয়ার্ডে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিভাগের সব জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা হাসপাতালগুলোয় তিনি আগেই নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, হামে আক্রান্ত ব্যক্তি ১৩ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। এ ছাড়া ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও এ রোগের সংক্রমণ বাড়ছে, যাদের এখনও টিকা নেওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ টিকা পাওয়ার আগেই তারা আক্রান্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত এলাকায় ব্যাপক পুনঃটিকাদান কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিজাম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম এক বছর ধরে ব্যাহত হয়েছে। কখনও টিকার ঘাটতি, কখনও মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের কারণে অনেক শিশু সময়মতো টিকা পায়নি।

তিনি জানান, ইপিআই কর্মসূচিতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পদ শূন্য থাকাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়া শিশুরাই এখন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,  ইপিআই কর্মসূচি অনুযায়ী, শিশুকে ৯ মাস বয়সে প্রথম হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, দেশে হামের টিকার সংকট ছিল এবং এখনও আছে। প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় দ্রুত ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া  সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালকে হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষেণ করা হচ্ছে। ডিএনসিসির কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের সংখ্যা বাড়ানো এবং নবজাতকদের জন্য নতুন ভেন্টিলেটর যুক্ত করা হয়েছে।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন