ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিমালার বিরুদ্ধে বিশাল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির বড় শহরগুলোতে আবারও 'নো কিংস' শিরোনামে তৃতীয় ধাপে এই বিক্ষোভ চলছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ মার্চ) ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেসসহ আমেরিকার প্রায় প্রতিটি বড় শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, ইরানে যুদ্ধ, কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন কার্যকর এবং জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন। তারা বলেছেন, ‘ট্রাম্প স্বৈরশাসকের মতো শাসন করতে চান। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, অর্থ নিয়ে সাংবাদিকরা বিক্ষোভ প্রচার করছে।
এবারের বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু মিনেসোটা। গেল জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে রেনি নিকোল গুড এবং অ্যালেক্স প্রেত্তি নামে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের পর দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিলো। সেন্ট পলে স্টেট ক্যাপিটল ভবনের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশে ডেমোক্র্যাট দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন তার অভিবাসন-বিরোধী আইন নিয়ে লেখা গান 'স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপলিস' পরিবেশন করেন।
নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন। বেশী জনসমাগমের কারণে পুলিশ ম্যানহাটনের ব্যস্ত রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
এদিকে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় এক হাজার দাঙ্গাকারী রয়্যাল ফেডারেল বিল্ডিং ঘেরাও করে কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে সিমেন্টের ব্লক ছুড়ে মারে। তখন দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। সেখান থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বলেছে, ফেডারেল কারাগারের কাছে ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ না মানায় আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জনতাকে সরাতে 'নন-লেথাল' বা অ-মরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ডালাসে পাল্টা-বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন অংশ ভেঙে দেন। অঙ্গরাজ্যের গভর্নরদের আপত্তি উপেক্ষা করে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করে তার ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়ান। তার রাজনৈতিক বিরোধীদের বিচার করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেন।
ফক্স নিউজকে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা তাকে রাজা বলছে। কিন্তু তিনি রাজা নন। বরং একটি সংকটাপন্ন রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করতেই তিনি এসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন।‘ তবে সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপ অসাংবিধানিক। আমেরিকান গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি।
আমেরিকার বড় বড় শহর ছাড়াও শেলবিভিল এবং হাউলের মতো ছোট শহরগুলোতেও মানুষ রাস্তায় নেমেছে। তারা ট্রাম্পের যুদ্ধ ও অভিবাসন নীতির প্রতিবাদ জানিয়েছে। শুধু আমেরিকায় নয়, ফ্রান্সের প্যারিস, লন্ডন এবং লিসবনের মতো আন্তর্জাতিক শহরগুলোতেও প্রবাসী মার্কিনিরা ট্রাম্পকে 'ফ্যাসিস্ট' ও 'যুদ্ধাপরাধী' আখ্যা দিয়েছে। তারা ট্রাম্পের অভিশংসন দাবি করেছেন।
গেল বছরের অক্টোবরে 'নো কিংস' র্যালিতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল। এবারও শিকাগো, বোস্টন, ন্যাশভিল এবং হিউস্টনের মতো শহরগুলোতে বিক্ষোভ ফুঁসে উঠছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কয়েকটি রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এমএ//