ইরানকে ফাঁসাতে মুসলিম দেশগুলোকে বিভ্রান্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন পরোক্ষ আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আকস্মিক যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এর পরপরই প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে কঠোর অবস্থান নেয় তেহরান।
এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে ইরান। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে তৈরি তাদের ড্রোনগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব ড্রোন হামলা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এই পরিস্থিতিতে নতুন একটি অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির দাবি, ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের আদলে তৈরি ‘লুকাস’ নামের ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মুসলিম দেশে হামলা চালাচ্ছে এবং পরে সেই হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি’র বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যমে আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, সম্প্রতি তুরস্ক, কুয়েত ও ইরাকের মতো প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার দায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ওপর চাপানো হয়েছে। তাদের মতে, এই কৌশলের উদ্দেশ্য হলো ইরানের সামরিক পদক্ষেপগুলোকে বিতর্কিত করে তোলা এবং তেহরানের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সন্দেহ ও বিভাজন সৃষ্টি করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান সাধারণত কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক বা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালায়। একই সঙ্গে কোনো হামলা চালালে সরকারিভাবে বিবৃতি দিয়ে তা স্বীকারও করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত ইতোমধ্যে ১৬ দিনে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুই পক্ষই আপসের কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত আরও আগে। গত বছরের ১৩ জুন পরমাণু ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় প্রথম বড় হামলা চালায় ইসরাইল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও অভিযানে অংশ নেয় বলে দাবি করা হয়। সে সময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু স্থাপনায় আঘাত হানার কথা জানায় পেন্টাগন।
প্রায় ১২ দিন ধরে চলা সেই সংঘাত শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে গড়ায়, যেখানে মধ্যস্থতাকারী ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ থেমে গেলেও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা থেকেই যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সেই অমীমাংসিত উত্তেজনাই এ বছরের নতুন সংকটের ভিত তৈরি করে দেয়।
এসি//