সবজিতে স্বস্তি, ঈদের আগে বাড়ছে মুরগি-ডিমের দাম
রাজধানীর বাজারে কিছু সবজির দাম কমলেও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মুরগি ও ডিমের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজিতে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিমের ডজনেও বেড়েছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজা শুরুর আগের দিন ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে। পরে দাম কমে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় নেমে এলেও এখন আবার বেড়ে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গেল সপ্তাহে একই মুরগির দাম ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা।
একইভাবে সোনালি জাতের মুরগি বর্তমানে প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকায়।
ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। গেল সপ্তাহে ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। এখন তা বেড়ে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতাকে মাছের বাজারে ভিড় করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার দাম শুনেই মুরগির দোকান থেকে ফিরে যাচ্ছেন।
কয়েকদিন আগে বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দিলেও এখন সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের তেলই পাওয়া যাচ্ছে, তবে আগের তুলনায় লিটারে চার থেকে সাত টাকা বেশি দাম এখনও বহাল রয়েছে।
ঈদ সামনে রেখে সেমাই ও চিনির বিক্রিও বেড়েছে। বাজারে খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই ৪৫ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানের বাংলা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।
অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। বর্তমানে বেগুনের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার শুরুতে ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া উচ্ছে ৭০ থেকে ৮০, শিম ৪৫ থেকে ৫০, গাজর ৪০ থেকে ৫০, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০, শসা ৪০ থেকে ৫০ এবং আলু ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি রয়েছে।
মাছের বাজারে পাঙাশ প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি টেংরা ৭০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৭০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা ও টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চিংড়ির দাম সবচেয়ে বেশি—আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত লাগছে।
তবে বাজারের আরেক অংশে কিছু সবজির দাম আবার বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। করলা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল প্রতি কেজি প্রায় ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই দামে পাওয়া যাচ্ছে সিমের বিচি ও গোল বেগুন। লম্বা বেগুন ও শসার কেজি প্রায় ৮০ টাকা। টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৬০ টাকা এবং বড় কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে।
বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি বাড়ালে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম কিছুটা কমতে পারে।
এমএ//