নরসিংদীর সেই কিশোরীকে হত্যা করেন সৎবাবা, আদালতে স্বীকারোক্তি
নরসিংদীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পরে অপহরণ ও হত্যার মামলায় কিশোরীর সৎবাবা আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি শর্ষেক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (৭ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে নিজ কার্যালয়ে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক।
ওই কিশোরীর বাবা আদালতকে বলেন, কিশোরীর নানা কর্মকাণ্ডে বিরক্ত ও সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয়প্রতিপন্ন হয়ে তিনি একা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। হত্যার দায় অন্যদের ওপর চাপাতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। হত্যাকাণ্ডের ১০–১২ দিন আগে আসামি হযরত আলীর বাড়িতে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর বিচার চাইতে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যান তাঁরা। এ ঘটনার পর শর্ষেখেত থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই কিশোরীকে নিয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একজন সহকর্মীর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। নির্জন এক শর্ষেখেতের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ওই কিশোরীকে পেছন থেকে তারই ওড়না দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরেন তিনি। পরে ওই শর্ষেখেতে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর তাঁর লাশ সেখানেই রেখে বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে অপহরণের নাটক সাজান কিশোরীর সৎ বাবা।
এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাসহ আট আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলেও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। গতকাল শুক্রবার ৬ ওই কিশোরীর সৎবাবা আশরাফ আলীকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। একপর্যায়ে তিনি পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতে পাঠানো হলে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ আসামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
আই/এ