মার্কিন নাগরিকদের ‘তাৎক্ষণিক’ ইরান ছাড়ার নির্দেশ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের শঙ্কা থাকলেও শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান অস্থিরতা ও ভ্রমণ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। এতে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার আহ্বান জানানো হয় এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নিজ উদ্যোগে নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস এক বার্তায় জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিধিনিষেধ এবং অনিশ্চিত পরিবহন সংযোগ—এই তিনটি কারণে সেখানে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
এর মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়, প্রায় নয় মাস পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পারমাণবিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। ওমান সময় শুক্রবার সকাল ১০টায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা উদ্বেগ সত্ত্বেও উভয় পক্ষ কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে।
সম্প্রতি ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার পরই আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়। যদিও বৈঠকের স্থান ও কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছিল।
আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ বৈঠককে দেখা হচ্ছে। মতপার্থক্য বজায় থাকলেও আলোচনায় অগ্রগতি হলে ভবিষ্যৎ সংলাপের একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করুক এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কমাক। একই সঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং নাগরিকদের প্রতি আচরণের বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, আলোচনা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। এ মতবিরোধ কতটা দূর হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
শিগগিরই কোনো সমঝোতা না হলে ইরানের ওপর হামলার হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরাইলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে।
বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি ইতোমধ্যে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
এমএ//