জাতীয়

৩৯ হাজার আখচাষির জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রণোদনা

রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কৃষি প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আয়োজিত জনসভায় ডিজিটাল বোতাম চেপে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের বেড বাড়ানো হবে। এবার প্রত্যেকটা উপজেলার হাসপাতাল ১৫০ বেডে উন্নতিকরণ করা হবে। যেনো গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন। আমরা চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে চাই। 

তিনি  বলেন, নির্বাচনের পর রাজশাহীর কলকারখানা চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিছু উদ্যোক্তা এনে বন্ধ মিল কলকারখানা চালু করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৪৬ বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেনো আমার ভাইবোনেরা বেকার না থাকেন।

তিনি আরও বলেন, একটি মহল নির্বাচনের পর থেকে ষড়যন্ত্র করে চলেছে। নির্বাচনের সময় তার্ াটিকিট বিক্রি করছিল। বিএনপি সরকার যখন নিরাপত্তা, বন্ধ মিল, কলকারখানা চালু করছে, বেকার সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময় এই দল রাস্তায় নেমে বিশৃংখলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তারা সরকারের কাজগুলোতে স্লো করে দিচ্ছে। বাধাগ্রস্ত করছে।

তারেক রহমান বলেন, একটি দল দেশে ও একটি দল পালিয়ে থেকে দেশের মধ্যে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। একটি দল পালিয়ে থেকে অর্থ দিচ্ছে আর একটি দল দেশে থেকে সেই টাকা দিয়ে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এ থেকে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।

এর আগে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানান। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া মঞ্চে ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন।

রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।

এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তারেক রহমান। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি।

 

এসি//

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান #আখচাষি