কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতার পঙ্ক্তি–‘ যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে / সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া, / যদিও সঙ্গী নাহি অনন্ত অম্বরে, / যদিও ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া, / মহা-আশঙ্কা জপিছে মৌন মন্তরে, / দিক্-দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা, / তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, / এখনি অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা।’ উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘আমরাও পাখা বন্ধ করব না। আমরাও উড়ে যাব, অবশ্যই তীরে পৌঁছবো। অবশ্যই পৌঁছবো। আমরা আমাদের যে স্বপ্ন–একটা অসাম্প্রদায়িক, শান্তিময়, প্রেমময় বাংলাদেশ–সেই বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করব।’
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের সাহিত্য ও শিল্পে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব মেলবন্ধন রয়েছে। কিছু সুবিধাবাদী মানুষ বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়, তারাই অস্থিরতা তৈরি করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ–সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে বলে দেশ-বিদেশে নানা প্রচার চালানো হয়। তবে বাংলাদেশের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম সুন্দরভাবে পালন করে সেই প্রচারের জবাব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের যে স্লোগান–ধর্ম যার যার, উৎসব সবার; আমরা তার সঙ্গে যোগ করতে চাই–ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সংবিধান আপনাকে যে নাগরিক অধিকার দিয়েছে, রাষ্ট্র তা রক্ষা করতে দায়বদ্ধ। ১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় তৈরি হয়েছিল, তা থেকে সরকার সরে যায়নি।, সেই বাংলাদেশ রক্ষায় যে কোনো মূল্য দিতে সরকার প্রস্তুত।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পূজা যেন নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শুধু সরকারকে নয়, নিজ দলের নেতা-কর্মীদেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
আই/এ